সিলেটের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পত্রিকা : আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১ আগস্ট ২০১০ : আজ বৃহস্পতিবার 23 মে 2013



মুক্তমত

গ্রেফতার-বিচার তত্ত্বাবধান করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই

আল-আজাদ

 

altপ্রকৃতির লীলাভূমি বাংলাদেশে প্রায়ই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। আর তা ঘটছে এই ভূখণ্ড সৃষ্টির পর থেকেই। এতে প্রাণহানি হয়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে মারা গিয়েছিল ১০ লাখ নর-নারী-শিশু। এই কারণে ১৯৯১ সালে প্রাণ হারায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ। এছাড়া প্রতিবছরই বন্যা, বজ্রপাত, কালবৈশাখী ইত্যাদিতে অনেককে প্রাণ হারাতে হয়।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়। অল্প কিছু মানুষ সম্পূর্ণ ব্যক্তি স্বার্থে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পথ তৈরি করে রাখে। এতে প্রাণ যায় শত শত মানুষের; কিন্তু যারা এই হত্যাযজ্ঞের জন্যে সরাসরি দায়ী তাদের গায়ে বিপর্যয়ের আঁচটিও লাগে না। অনায়াসেই তারা সব দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যায়।

সর্বশেষ উদাহরণ সাভারের চলমান মানবিক বিপর্র্যয়। নয়তলা ভবন ধসে সেখানে কতজন যে প্রাণ হারিয়েছে তা দুইদিনেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর সঠিক সংখ্যা জানতে অবশ্যই কিছুটা সময় লাগবে; কিন্তু কে এ জন্যে দায়ী তা সাথে সাথেই সবার জানা হয়ে গেছে।

মমালাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই দায়ী ব্যক্তি সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা বিধ্বস্ত ভবনের নীচে চাপা পড়েছিলেন। আটকে পড়া অনেককে উদ্ধারের আগে তাকে উদ্ধার করা হয়। আর উদ্ধার করেন স্বয়ং ওই এলাকার সংসদ সদস্য তৌহিদ জং মুরাদ। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেই এ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কারণ জনগণের ভালমন্দ দেখা তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে; কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওই এলাকার জনগণ বলতে কি এত প্রাণ কেড়ে নেয়ার দায় যার সেই লোকটি একা। অন্যদের দেখভালের দায়িত্ব কি সংসদ সদস্যের নয়। যদি থাকে তাহলে তিনি সবার আগে সোহেল রানাকে উদ্ধারে এত ব্যস্ত হলেন কেন।

শুধু উদ্ধারেই ব্যস্ত হলেন না-তাকে লাপাত্তাও করে দিলেন, যে কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্যে খুঁজে পাচ্ছে না। অথচ একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তৌহিদ জং মুরাদের পরের গুরু দায়িতট্বি ছিল সোহেল রানাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া; কিন্তু তিনি দেননি। কেন দেননি তা বুঝতে নিশ্চয়ই কারো অসুবিধা হচ্ছে না।

অন্যদিকে করিৎকর্মা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছেন, হরতাল সমর্থকরা নাকি ভবনটির ফাটল ধরা পিলাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে ভবনটি ধসিয়ে দিয়েছে। সুতরাং বিবিসিকে দেয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাক্ষাতকার ও এলাকার সাংসদের উদ্ধার অভিযানই বলে দেয়, প্রধানমন্ত্রী যতই আন্তরিক হোন না কেন আর তদন্ত প্রতিবেদন যে সত্যই বেরিয়ে আসুক না কেন ঠিক অতীতের অন্যসব মানবসৃষ্ট বিপর্য়য়ের মতোই সাভার বিপর্যয় এক সময় বিস্তৃতির অতলে হারিয়ে যাবে। এমন জঘন্য অপরাধ করার পরও কারো কোন সাজা হবে না। আর এই উদাহরণ ভবিষ্যতে এরকম আরো বিপর্যয়ের জন্যে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

শেষ কথাটি আসলে তিক্ত অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এর থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আর চায় বলেই দিনবদলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। যদিও সাড়ে ৪ বছরে প্রত্যাশার সবটুকু পূরণ হয়নি। তবু আশা ছাড়েনি মানুষ। তাই আশা করে, অন্ততঃ মানুষ নামের ওই দানবগুলো-যারা নিজের স্বার্থে বারবার অগণিত প্রাণ কেড়ে নেয়, স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান করে দেয় অসংখ্য পরিবারের, হত্যার দায়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে দিনবদলের আরোকটি উৎকৃষ্ট উদারহণ তৈরি করা হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি শুধু সরকার প্রধান নন-বঙ্গবন্ধুর কন্যাও। এ দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি-আকাক্সক্ষার কথা আপনার চেয়ে আর কে বেশি জানে বা বুঝে। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা আপনাকে কুড়ে কুড়ে খায়। এই যন্ত্রণার খানিকটা উপশম হলো এতগুলো প্রাণ কেড়ে নেয়ার জন্যে যে বা যারা দায়ী তাদরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে আপনাকেই। কারণ ষোলকোটি মানুষের স্থির বিশ্বাস, প্রতিটি দুর্যোগে আপনার তত্ত্বাবধান থাকে বলেই দুর্যোগ কালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী করণীয়গুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।

তাই দেশবাসী মনে করে, মানবসৃষ্ট দুর্যোগের জন্যে দায়ীদের গ্রেফতার এবং বিচারও আপনাকে তত্ত্বাবধান করতে হবে। কারণ আপনার অনেক মন্ত্রীর কথাবার্তায় তাদের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের ভিত অনকেটা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

 

হারিস মোহাম্মদ : সত্যিকারের এক কলম সৈনিক

মোহাম্মদ মহসীন

 

নির্লোভ নির্ভীক এবং সত্যিকারের একজন কলম সৈনিক ছিলেন হারিস মোহাম্মদ। তবে সংবাদপত্র জগতের কেউ কেউ তাকে তেমন একটা ভালো চোখে দেখতেন না। কারণ, তিনি ছিলেন এক ধরনের একরোখা স্বভাবের আর স্পষ্টবাদী। যা সত্য তা-ই বলতেন এবং লিখতেন।

altতিনি সকল প্রকার লোভ-লালসার উর্ধ্বে ছিলেন। জাতীয় দৈনিক দিনকালের জন্মলগ্ন থেকেই হারিস মোহাম্মদ এ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। বিগত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন যদি তিনি চাইতেন তাহলে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারতেন। এমনকি কোটিপতিও হতে পারতেন; কিন্তু তিনি সৎ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন বলেই তাকে কোনো অসততা স্পর্শ করতে পারেনি। তার এই সততার কারণেই তিনি স্ত্রী-সন্তানদের ভাড়াটে বাসায় রেখে তিনবছর আগে চিরবিদায় নেন। একটু এদিক-সেদিক করলেই বাসা-বাড়ির মালিক হওয়া তার জন্য কোনো ব্যাপারই ছিল না।

আমার এই সাংবাদিকতার জীবনে এমনও দেখেছি, যার পকেটে বেশিরভাগ সময় রিক্সাভাড়াই থাকতো না, তিনি হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।

হারিস মোহাম্মদ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, আর যাই হোক সাংবাদিকতা পেশায় সৎ না থাকলে নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দেওয়াটাই অপরাধ। হারিস মোহাম্মদের কথায় এবং লেখায় কে খুশি হলো আর কে নাখোশ হলো তার তোয়াক্কা করতেন না তিনি। তার কথাই ছিল, যা সত্য তা-ই বলবো এবং লিখবো। মৃত্যুর পূর্ব মূহূর্ত পর্যন্ত তিনি এই নীতি ও আদর্শকে ধরে রেখেছিলন।

হারিস মোহাম্মদের মতো একজন নিষ্ঠাবান মানুষের বড়ই অভাব বোধ করছি। সাংবাদিকতা পেশায় নতুন নতুন লোক আসছেন-আসবেন; কিন্তু তার মতো একজন সত্যিকারের সাংবাদিক সহজে পাওয়া যাবে না।

লেখক ইউএনবির সিলেট প্রতিনিধি।

 

স্মরণ : শাহ এএমএস কিবরিয়া

শাহাবুদ্দিন শুভ

 

alt'দুঃসহ যন্ত্রণা ও বেদনা বুকে নিয়ে স্বামী শাহ এএমএস কিবরিয়ার মৃত্যুর দুবছর পার করেছি আমি। তাকে ছাড়া এই দুবছর কী করে বেঁচে আছি ভাবতে পারি না। কষ্ট বুঝানোর মত ভাষা আমার জানা নেই। আমার মতো এভাবে কাউকে যেন বৈধব্য বরণ করতে না হয়। কারো স্বামীকে যেন এভাবে মৃত্যুবরণ করতে না হয়, এই আমার প্রার্থনা। আমার স্বামীকে যেভাবে গ্রেনেড হামলা করে নৃশংসভাবে  হত্যা করা হয়েছে, তা কোন সভ্য দেশে সম্ভব কি না-ভাববার বিষয়। যে গ্রেনেড যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, এই দেশে সেই গ্রেনেড রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এখন নিক্ষেপ করা হচ্ছে নিরপরাধ মানুষের উপর। দশ ট্রাক ভর্তি গ্রেনেড আনা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ফলাও করে এগুলো দেখানো হয়েছিল টেলিভিশনগুলোতে; কিন্তু কে বা কারা এগুলো এনেছিল তার কোন তদন্ত ঠিকমত হয়নি। সেই গ্রেনেডগুলো কোথায় রাখা হয়েছে। সেগুলো দিয়ে কি করা হয়েছে তা জনগণকে জানাতে পারল না। ভাবতে অবাক লাগে, একজন শান্তি প্রিয়, অমায়িক, পরহিতৈষী, সুযোগ্য দেশপ্রেমিককে হত্যা করতে কারো হাত কাঁপলো না।'

জীবন সঙ্গীকে হারিয়ে আক্ষেপের সুরে আসমা কিবরিয়া সাপ্তাহিক 'মৃদুভাষণ' এই কথাগুলো লিখেছিলেন 'বেদনায় নীল হয়ে আছি' শিরোনামে ২০০৭ সালে শাহ এএমএস কিবিরিয়া হত্যার পর।

১৯৯১ সালের প্রথমদিকে শাহ এএমএস কিবরিয়া প্রবাসের চাকরি থেকে অবসরের পর নিজের দেশে ফিরে আসেন। ইচ্ছা করলে প্রবাসে থেকে যেতে পারতেন; কিন্তু থাকতে পারেন নি। কারণ প্রিয় স্বদেশের সাধারণ মানুষের মুখগুলো তার চোখের সামনে ভাসছিল। সহজ-সরল মানুষগুলোর কথা তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তাই তিনি দেশের জন্যে-দেশের মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে দেশে ফিরে যোগদান করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি হন অর্থমন্ত্রী। এসময় তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে আসমা কিবরিয়া বলেছিলেন, এদেশে ভাল মানুষের কোন মূল্যায়ন নেই। এদেশে তাদের বাঁচতে দেওয়া হয় না। আসলেও তাই। যদি আমরা একটু চোখ খুলে তাকাই তাহলে দেখতে পারি তার বাস্তব প্রমাণ। যারা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে নিজেদের পকেট ভারি করেছে তাদের উপর কেউ গ্রেনেড ছুঁড়ে না। তাদের পকেট ফুলে দিনে দিনে বড় হয়। বাড়িগাড়ির সংখ্যা বাড়ে। অথচ যারা দেশের জন্য কোন কিছু করতে চায়। নিজের পকেট ভারি করতে চায় না। তাদের অকালেই চলে যেতে হয়। তাদের বাঁচতে দেওয়া হয় না। আহসান উল্লা মাস্টারকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি, বাঁচতে দেওয়া হয়নি শাহ এএমএস কিবরিয়াকে। এটাই কি ভাল ও সৎ রাজনীতিবিদদের প্রাপ্তি?

আসমা কিবরিয়া বলেছিলেন, এদেশে ভাল মানুষের কোন মূল্যায়ন নেই। আসলে সে কথা কতখানি সত্যি তা বোধ করি দেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার সাবেক অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কূটনীতিক শাহ এএমএস কিবরিয়া গ্রেনেড হামলার শিকার হবার পর। তখন সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে; কিন্তু পাওযা যায়নি। অথচ মোস্টওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে বাঁচানোর জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়। এ কোন আজব দেশে আমাদের বসবাস।

শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে তার পরিবার কয়েক বছর 'শান্তির স্বপক্ষে নীলিমা' নামে নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া জাগায়। সপ্তাহে  প্রতি বৃহস্পতিবার বেদনার রঙ নীল বস্ত্র পরিধান করে কিংবা নীল কোনো কিছু নিয়ে তার পরিবার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এরপরও এখন পর্যন্ত জাতির এই সুসন্তানের হত্যার বিচার হয়নি। নানা অজুহাতে পিছিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের সবার চাওয়া, দেশের এই কৃতি সন্তানকে হত্যার পেছনে যাদের হাত আছে তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক খুনিদের, যাতে কেউ আর এভাবে কারো জীবন নিতে না পারে।

 

শ্রমিকের রক্তমাখা মহান মে দিবস

বশির আহমদ জুয়েল 

 

১ মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মহান মে দিবস। দিনটি এসেছে রক্তদানের মাধ্যমে। শ্রমের ন্যায্য হিসাব বুঝে পাওয়ার দাবিতে সমাবেশ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয় শ্রমিকদের। পুলিশের গুলিতে সেই শ্রমিক হত্যার বিচার না করে উল্টো কথিত মামলায় ফাঁসিতে ঝুলানো হয় শ্রমিকদের। যা সভ্য সমাজে কখনোই কাম্য ছিলো না।

আমরা বুঝি- যাদের মন আছে, যারা নির্বোধ নয়, যাদের ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে, সাধারণ অর্থে তাদেরই মানুষ বলে গণ্য করা হয়। মানব দেহের কলকব্জা অন্য কোন প্রাণীর মতো নয়। সংবেদনশীল হওয়ায় যে কোন কর্মে একটানা সময় দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না; কিন্তু ক্ষমতাশালীরা অধীনস্থদের সারাক্ষণ খাটাতে চায়। কর্মীকে দাসত্বের শিকল পরিয়ে রাখতে চায়।

প্রাচীন বা মধ্যযুগে তা সম্ভব ছিল; কিন্তু আর কতদিন? শ্রমিকরা তাই অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ হয়। গড়ে তোলে প্রতিরোধ। ১৮৮৪ সালের ৭ অক্টোবর শ্রমের সময় আটঘণ্টা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য মালিকপক্ষের কাছে প্রথম দাবি তোলে আমেরিকার ফেডারেশন অব লেবার; কিন্তু তাতে মালিকপক্ষ মোটেও কর্ণপাত করেনি।

ফলে ১ মে ১৮৮৬ ধর্মঘটের আহ্বান করা হয়। তাতে যোগ দেন ৩ লাখ শ্রমিক। আন্দোলন ক্রমে দানা বাঁধতে থাকে। সরকারের ভিতও নড়েচড়ে ওঠে। ৩ ও ৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো নগরীর হে মার্কেটে শ্রমিকরা সমাবেশের আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত হন অসংখ্য শ্রমিক। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হঠাৎ করেই পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রাণ হারান ১০ শ্রমিক। সাজানো মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয় আরো ৪ জনকে। এর ফলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকার সর্বত্র। এর প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত এড়াতে সে সময় বহু প্রতিষ্ঠান ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নেয়।

১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে কে ঘোষণা দেওয়া হয় 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস' হিসেবে। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতিবছর দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হতে শুরু করে 'মে দিবস' নামে। এরপর ১৮৯০ সালের ১ মে থেকে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই দিনটি পালিত হচ্ছে।

আমাদের দেশেও প্রতিবছর মে দিবসপালিত হয়। সর্বপ্রথম দিনটি পালিত হয় ১৯৩৮ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ব্যাপকভাবে মে দিবস পালিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে মে দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, শ্রমিকের রক্তমাখা মে দিবসের ছুটি কাটানোর জন্য কেউ পিছপা না হলেও শ্রমিকদের মূল্যায়নের ব্যাপারে কারো যেন কোন দায়ই থাকে না। শ্রমিকের রক্তমাখা মে দিবসের মূল্যায়নে ও তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেতন বোদ্ধাদের এগিয়ে আসাটা এখন সময়ের দাবি।

শ্রমিকদের আত্মদানের ফলেই সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংক এবং কল-কারখানা বন্ধ থাকে। দিনটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলো মে দিবসের বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্রও প্রকাশ করে থাকে। এভাবেই প্রতি বছর মে দিবস পালিত হয়। পালনও করা হয় ঘটা করে; কিন্তু ন্যায্য শ্রম অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের আত্মাহুতির এ দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কারণ, এখনো আগের মতোই শ্রমিকদের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা শ্রম দিতে হয়। অথচ শ্রম অনুযায়ী শ্রমিকরা কখনোই পারিশ্রমিক পায় না। ন্যায্যমূল্যের চেয়ে অনেক কম দেওয়া হয়।

এ বৈষম্য দূর করার জন্য যেন কেবল শ্রমিকরাই আন্দোলন করে যাবে আর বোদ্ধারা নিরবতা পালন করবেন!

সারাবিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও রয়েছে শিশুশ্রম। হিসেব করলে হয়তো তুলনায় বেশিই হবে। এতে শিশুদের মেধাবিকাশের অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে। যার জন্য দেশ ও জাতি ভবিষ্যতে খেসারত দিতে বাধ্য। শিশুশ্রম বন্ধ করে শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করতেই হবে।

 


সবিশেষ


  • সিলেট মহানগরীর শাহজালাল উপশহরে ২৩ মে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত ব্যবসায়ী রিংকু বড়ুয়া (৪৩) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।..

অনলাইন সংযোগ 65983+

PL Software SolutionPL Software SolutionPL Software SolutionPL Software SolutionPL Software SolutionPL Software Solution
mod_vvisit_counterআজ27
mod_vvisit_counterগতকাল301
mod_vvisit_counterএসপ্তাহ1281
mod_vvisit_counterগতসপ্তাহ3198
mod_vvisit_counterএমাস10083
mod_vvisit_counterগতমাস10758
mod_vvisit_counterমোট331534

২০১৩ পাঠজরিপ 2541+

ছন্দকথা

  

পরিচালনা পরিষদ : আল-আজাদ, রনক আহমদ চৌধুরী, মো. আরজু হোসেন, বশির আহমদ জুয়েল, কাসমির রেজা, সুরঞ্জিত বর্মণ ও মঈন উদ্দিন আহমদ খোকন।
সম্পাদক : আল-আজাদ, মোবাইল নম্বর : +৮৮০১৭১১৩৩৫২৫০। তথ্য-প্রযুক্তি সমন্বয়ক : শাহাবুদ্দিন শুভ, মোবাইল নম্বর : +৮৮০১৭১৬১৫৯২৮০।

Copyright : Bangla Media Group Email : bnewsup@gmail.com Web : www.banglanewsupdate.com  

 

Powered by PL Software Solution.